নিরপেক্ষতায় এগিয়ে আমরা...

মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৬, ২০২১

ফেরা - আমার মাকে রেখে |

নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর ৯ সেপ্টেম্বর,২০২১

ছুটি শেষে কর্মস্থল ফিরছি, এমন নয় যে, কখনোই ফেরা হয় না, কখনো কখনো হয়। তবে অধিকাংশ সময়ই আসলে ফেরা হয় না। 

চার দিন ছিলাম বসুন্ধরা , ঢাকা — এক মহিয়সি মায়ের আমন্ত্রণে। তার কথা মনে হলেই এখন আমার চোখে শান্ত কিন্তু দীর্ঘ, স্থির কিন্তু ঋজু একটি অরণ্য ভেসে ওঠে। 

অলস শুয়ে আছে সেই অরণ্য ঢাকার বুকের উপর, যেন খোদা তার নিজের জন্য বিছিয়ে রেখেছেন একটি সবুজ কার্পেট, মাঝে মাঝে এসে বসবেন সন্ধ্যায়,  উদাসী হবেন হয়ত। আচ্ছা খোদা কি উদাসী হন? কে জানে! 

উদাসীনতার কথা যদি বলতেই হয় তবে ছাদের উপর শুয়ে শুয়ে অপেক্ষাতর দুটি বিকালের কথা বলা যায়। সূর্য ডুবে গেলে মানুষ কেন যেন নীরব হয়ে যায়, যেন তার নিজের বিদায়ের কথা এসে হাজির হয় মনের ভেতর। আর তখন কেউ একজন যদি গেয়ে ওঠে, 'কী জানি কিসের লাগি, প্রাণ করে হায় হায়!'— তখন মেঘ এসে ছেয়ে যায় মাথার ওপরে, তখন বিষন্নতায় ছেয়ে যায় অস্থির হৃদয়। সেইরকম মেঘের অন্ধকারে লুকিয়ে যাওয়া দুটি সূর্যাস্ত নিয়ে এসেছি এই শহরে, যদিও জানি, এগুলো এখানে বিক্রিযোগ্য নয়! 

আর দুটি ভেজা সন্ধ্যা—একটি সন্ধ্যা আশংকার, একটি জলজ ভালোবাসার। আমার আল্লাহ আমাকে অস্থির হতে বারণ করেন, কিন্তু দীর্ঘ দোহারা যৌবনবতী নারীর মত একটি টলটলে পাকা পুকুর দেখে আমি সে বারণ ভুলে ছুটে সেই পুকুরের বুকের উপর ঝাঁপিয়ে পড়তে গিয়ে পিছলে যাই, আর বুকের হাড় আর বেদনা সমেত কংক্রিটের সিঁড়ির ওপর আছড়ে পড়ি, ব্যথায় আমার তখন মনে পড়ে যায়, আরেক নারী, যে কিনা আমার রক্ত এবং মাংসের ভেতরেও বিরাজ করে, আমাকে বারণ করেছিল নাইতে নামতে। 

কিন্তু যদি আকাশ ঝেঁপে বৃষ্টি নামে আর তার ফলে একজন প্রেমিক বেইমান হয়ে যায়, কাকেই বা দোষ দেয়া যায়! 

আমি তবু বেদনা লুকিয়ে রেখে বহুদিন পর জলের শরীরের ভেতর নিজেকে চালান করে দিয়েছি। মাছের মত পানিতে ঘাই মেরে আমি ভুলতে চেয়েছি আমাদের জীবন বড় একঘেয়ে! সন্ধ্যা, বৃষ্টি ঝড়ছে, জলে শরীর ডুবিয়ে একজন মানুষ চেয়ে আছে আকাশের দিকে উদ্ভ্রান্তের মত

তার পরে আসে আরেকটি জলজ সন্ধ্যা। এবার আর আমি একা নই। ভীত এক রমণী যে কিনা সাঁতার জানে না, আমি সাহসের মীন হয়ে হয়ে তার কাছে গিয়ে বলি, এসো, আমরা সাঁতরে সাঁতরে পার হয়ে যাব জীবনের সব উত্তাল ঢেউ। ভরসার উপর দড়িয়ে সে নারী সঁপে দিলে নিজেকে আমার কাছে, বিদ্যুৎ চমকের ভেতর দিয়ে আমি তাকে নিয়ে ভেসে চলি। ভাসতে ভাসতে আমাদের জীবন ফুরিয়ে যাক, কিছুই তখন আর আসে-যায় না। 

শেষাবধি কৃতজ্ঞতা সেই মহিয়সি নারীর প্রতি, দিলদরিয়া সে, এত কষ্ট করেছে তবু সবসময় হাসিখুশি। অনন্য সে, আল্লাহ তাকে অনেক অনেক সুখী করুক!

রিসালাত
পার্বত্য চট্টগ্রাম  ৬ সেপ্টেম্বর ২১

tags

মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন

সব খবর