নিরপেক্ষতায় এগিয়ে আমরা...

বুধবার, জুলাই ২৮, ২০২১

টিকা পর্যন্ত অপেক্ষা না করেই স্কুল খুলে দিন

টিকা দেওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা না করেই স্কুল খুলতে বলল ইউনিসেফ ও ইউনেসকো। গতকাল সোমবার ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েটা ফোর এবং ইউনেসকোর মহাপরিচালক অড্রে আজুল এক যৌথ বিবৃতিতে এই আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্বে কভিড-১৯-এর প্রাদুর্ভাব শুরুর পর ১৮ মাস পেরিয়ে গেছে, লাখ লাখ শিশুর পড়ালেখা এখনো ব্যাহত হচ্ছে। এখনো ১৯টি দেশে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল বন্ধ থাকায় ১৫ কোটি ৬০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ তথ্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, ‘এভাবে চলতে পারে না। বন্ধের ক্ষেত্রে স্কুলগুলো সবার শেষে এবং খোলার ক্ষেত্রে সবার আগে বিবেচনায় রাখা উচিত।’

তবে আমাদের দেশে বারবারই বিভিন্ন পর্যায় থেকে বলা হচ্ছে, করোনা সংক্রমণ ৫ শতাংশের নিচে না নামলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা ঠিক হবে না। আমরা কোনোভাবেই শিক্ষার্থীদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারি না। যদিও চলতি বছরের শুরুর দিকে করোনা সংক্রমণ ৫ শতাংশের নিচে নামলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হয়নি।

গতকালের বিবৃতিতে ইউনিসেফ ও ইউনেসকো বলেছে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টায় সরকারগুলো অনেক সময় স্কুল বন্ধ করে দিচ্ছে এবং দীর্ঘদিন ধরে সেগুলো বন্ধ রাখছে। অনেক ক্ষেত্রে শুরুতেই স্কুল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, অথচ রেস্তোরাঁগুলো খোলা থাকছে।

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সংক্রমণ কবে শূন্যের কোঠায় নামবে, সে জন্য আর অপেক্ষায় থাকা যায় না। এটা প্রমাণিত যে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো সংক্রমণ ছড়াতে মুখ্য ভূমিকা রাখছে না। আর বেশির ভাগ ক্ষেত্রে উপযুক্ত কৌশল অবলম্বনের মাধ্যমে স্কুলগুলোতে কভিড-১৯ সংক্রমণের ঝুঁকি সামাল দেওয়া সম্ভব। স্কুল খুলে দেওয়া বা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ঝুঁকি বিশ্লেষণ করে এবং যে কমিউনিটিতে স্কুল অবস্থিত, সেখানকার মহামারি পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে।’

ইউনিসেফ ও ইউনেসকো বলছে, ‘স্কুলগুলো আবার চালুর ক্ষেত্রে সব শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর টিকা দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করা যায় না। বৈশ্বিক পর্যায়ে টিকার ঘাটতি নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোকে বিপর্যয়ের মুখে ফেলেছে। এ অবস্থায় টিকাদানের ক্ষেত্রে সম্মুখ সারির কর্মী এবং মারাত্মক অসুস্থতা ও মৃত্যুর ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার প্রদান অব্যাহত থাকবে। স্কুলে প্রবেশের আগে টিকাদান বাধ্যতামূলক না করাসহ সব স্কুলের উচিত যত দ্রুত সম্ভব ব্যক্তিগতভাবে স্কুলে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীরা যাতে কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে, সে ব্যবস্থা করা।’

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘আমাদের ভবিষ্যেক স্কুল বন্ধ রাখার মাধ্যমে জিম্মি রাখা হচ্ছে। অগ্রাধিকার দেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের অবশ্যই আরো বিবেচক হতে হবে। আমরা নিরাপদে স্কুলগুলো আবার চালু করতে পারি এবং আমাদের অবশ্যই এটি করা উচিত।’

আজ মঙ্গলবার অনুষ্ঠেয় গ্লোবাল এডুকেশন মিটিং সামনে রেখে সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ও সরকারগুলোর প্রতি ইউনিসেফ ও ইউনেসকো অনুরোধ জানায়, যেন প্রজন্মগত বিপর্যয় এড়াতে নিরাপদে স্কুলগুলো খুলে দেওয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।

গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে আমাদের দেশে বন্ধ রয়েছে সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে বলে এর আগে জানিয়েছে ইউনিসেফ।

tags

মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন

সব খবর